রাতে ঘুম ভেঙে বারবার প্রস্রাব? হতে পারে শরীরের গোপন সতর্ক সংকেত
গভীর ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে বাথরুমে যাওয়াকে অনেকেই স্বাভাবিক ঘটনা মনে করেন। তবে যদি এটি রাতের পর রাত ঘটতে থাকে, তাহলে সেটি আর সাধারণ বিষয় থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করার এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় নক্টুরিয়া, যা শরীরের ভেতরের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নক্টুরিয়া শুধু ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না; এটি দৈনন্দিন অভ্যাস, হরমোনজনিত পরিবর্তন কিংবা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা মূত্রাশয়ের সমস্যার মতো রোগের পূর্বাভাসও হতে পারে। নিয়মিত রাতে প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে গেলে যে কারণগুলো দায়ী হতে পারে, সেগুলো হলো—
আরও পড়ুন: সারাদিন সতেজ ও ক্লান্তিহীন থাকতে খাদ্যাভ্যাসে আনুন এই ৫ পরিবর্তন
সন্ধ্যায় অতিরিক্ত তরল গ্রহণ
ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি, চা, কফি বা অ্যালকোহল পান করলে রাতে মূত্রাশয়ের ওপর চাপ পড়ে। বিশেষ করে ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল মূত্রবর্ধক হওয়ায় প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এবং ঘুমের চক্র ভেঙে দেয়।
আরও পড়ুন: এই ৫টি ভুলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফ্রিজ
বয়সজনিত মূত্রাশয়ের পরিবর্তন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূত্রাশয়ের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা কমে যায়। হরমোনের পরিবর্তনের ফলে রাতের বেলায় শরীর পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারে না, যার কারণে বয়স্কদের মধ্যে নক্টুরিয়া বেশি দেখা যায়।
ডায়াবেটিস ও মূত্রনালীর সমস্যা
রাতের বেলায় ঘন ঘন প্রস্রাব ডায়াবেটিসের একটি সাধারণ লক্ষণ। রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে গেলে শরীর অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। এছাড়া মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI), মূত্রাশয়ের প্রদাহ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তোলে।
পা ফুলে যাওয়া ও হৃদরোগ
দিনের বেলায় পায়ে জমে থাকা তরল রাতে শুয়ে পড়লে রক্তপ্রবাহে ফিরে আসে। কিডনি সেই তরল ফিল্টার করায় রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
ঘুমের ব্যাধি
স্লিপ অ্যাপনিয়া ও অন্যান্য ঘুমজনিত সমস্যায় শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয়। এতে স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ বাড়ে এবং কিডনির কার্যকারিতায় পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে রাতে প্রস্রাবের তাগিদ বাড়ে।
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের জন্য ব্যবহৃত মূত্রবর্ধক ওষুধ যদি দিনের শেষ ভাগে গ্রহণ করা হয়, তাহলে রাতের বেলা প্রস্রাবের সমস্যা বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মাঝে মধ্যে রাতে প্রস্রাবের জন্য ওঠা ক্ষতিকর নয়। তবে যদি এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ নক্টুরিয়া শরীরের বিপাক, হৃদযন্ত্র, কিডনি, মূত্রাশয় কিংবা ঘুমের সমস্যার প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে।





