হাদি হত্যাকারী ফয়সালের ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৮ অপরাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে মোট জমা রয়েছে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা। সিআইডি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এসআই আব্দুল লতিফ ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তার সহযোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।

আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশসহ চার সংশোধনীতে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন

অনুসন্ধানকালে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে খুন, সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থ জোগান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণও মিলেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসব অপরাধ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর আওতাভুক্ত হওয়ায় আইনের ১৪ ধারায় হিসাব অবরুদ্ধ এবং ১৭(২) ধারায় স্থিত অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানানো হয়। অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই অর্থ বেহাত হওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয় আবেদনে।

আরও পড়ুন: সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতেই এই গণভোট: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

এদিকে হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির পরিকল্পনাতেই শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে হাদি সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড।’

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন।

অন্যদিকে সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীরসহ কয়েকজন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়।