প্রথম সংসদ অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন পাস হবে : তথ্য মন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ন, ০৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩২ অপরাহ্ন, ০৯ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাকজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আসন্ন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন হিসেবে পাস করা হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার এ উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ‘ভোজ্যতেল পর্যাপ্ত আছে, দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না’: বাণিজ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন হিসেবে পাস করা হবে। আইন কার্যকর করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গণসচেতনতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।”

গোলটেবিল বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, অর্থাৎ মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ তামাক ব্যবহার করেন। তামাকের কারণে দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫৪৮ জন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এবং অসংখ্য মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। অর্থনৈতিক দিক থেকেও তামাকের ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: সরকারি দলের সংসদীয় বৈঠক বুধবার

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ তামাক ব্যবহার। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস করা গেলে তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমবে এবং সরকারের স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আইনের কোনো বিকল্প নেই। জনস্বার্থ বিবেচনায় অধ্যাদেশটি দ্রুত আইন হিসেবে পাস করা জরুরি।”

চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”

অনলাইন সংবাদমাধ্যম চরচা-এর সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে অধ্যাদেশটি হুবহু আইন হিসেবে পাস করা প্রয়োজন।”

তামাক ব্যবহারের কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। তিনি বলেন, “আমরা আজ ভুক্তভোগী মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছি। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা—এই আর্তনাদ যেন আর শুনতে না হয়।”

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন ও প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং প্রজ্ঞা’র তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বক্তারা জানান, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষায় ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নারী, শিশু ও অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সকল পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান (ডিএসএ) রাখার বিধান কার্যত বাতিল করে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলাধুলার স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে বিক্রয়স্থলে তামাকপণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধসহ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধানও রাখা হয়েছে।