রাজনৈতিক সমালোচনার পাশাপাশি চলছে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন
নির্বাচনি প্রচারণায় প্রথম দিন থেকেই বিএনপি-জামায়াতের আক্রমণাত্মক বাগযুদ্ধ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় প্রথম দিন থেকে চলছে দুই প্রধান জোটের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বক্তৃতার আক্রমণ। বিএনপি'র প্রধানসহ বক্তাগণ প্রতিপক্ষ জামাত জোটের তীব্র সমালোচনা করছে সমাবেশ গুলোতে। অপরদিকে জামাত ইসলামের প্রধান সহ জোটের নেতৃবৃন্দ বিএনপি'র তীব্র সমালোচনাসহ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছে বিএনপি প্রধান তারেক রহমান কে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বক্তৃতা চলছে দুই প্রধান জোটের পরস্পরের বিরুদ্ধে। দুইদলের পরস্পর বিরোধী বক্তৃতায় কর্মী সমর্থকরা ও ব্যাপক হর্ষ ধনি দিচ্ছে। রাজনীতি সহ সর্বত্রই কৌতূহল ভরে আলোচনার বিষয় হচ্ছে দুই প্রধান জোটের আক্রমণাত্মক বক্তব্য নিয়ে।
সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও দুই দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে পরোক্ষ ইঙ্গিত, অভিযোগ ও অতীত রাজনৈতিক প্রসঙ্গ উঠে আসছে বারবার। অথচ এর আগে উভয় দলই দোষারোপের রাজনীতি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: গণমানুষের স্বাস্থ্যসেবায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. রফিকুল ইসলাম
প্রচারণার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপির প্রচারণা শুরু করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বক্তব্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে ‘মিথ্যাচার’, ‘মানুষকে বিভ্রান্ত করা’ এবং ‘ধর্মের অপব্যবহার’-এর অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গও টানেন।
তারেক রহমান বলেন, “একাত্তরের ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। মানুষ দেখেছে কারা তখন দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ভোটের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।
আরও পড়ুন: ধর্মের অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেস্টা আইনত অপরাধন: মাহ্দী আমিন
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে ঢাকার মিরপুরে। ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি কাউকে আক্রমণ করতে চান না, তবে ‘ভোট ডাকাতি’, ‘ফ্যাসিবাদ’ ও ‘চাঁদাবাজির রাজনীতি’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। বক্তব্যে তিনি নতুন করে ভোট ডাকাতির আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “দেশের মানুষ আর কোনো নতুন ভোট ডাকাত দেখতে চায় না। যারা নিজেদের কর্মীদের সন্ত্রাস ও দুর্নীতি থেকে বিরত রাখতে পারবে না, তারা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।”
দুই দলের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে হেয় করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, আক্রমণাত্মক বক্তব্য তত বাড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “যদিও দলগুলো দোষারোপের রাজনীতি থেকে সরে আসার কথা বলেছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।”
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, রাজনৈতিক সমালোচনা নির্বাচনের একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই ভাষা যদি সহিংসতার দিকে গড়ায়, তাহলে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই দাবি করছে, তারা আত্মরক্ষার্থেই এসব বক্তব্য দিচ্ছে। বিএনপির নেতারা বলছেন, তারা ইতিহাসভিত্তিক সত্য তুলে ধরছেন। জামায়াতের বক্তব্য, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দিতেই তারা অবস্থান পরিষ্কার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারণায় এ ধরনের বাকযুদ্ধ জনমত গঠনে প্রভাব ফেললেও সহনশীল রাজনৈতিক আচরণ নিশ্চিত না হলে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, রাজনৈতিক উত্তেজনাও তত বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।





