রাবির প্রশাসনিক ভবনসহ ১২ স্থাপনার নাম পরিবর্তন

Sadek Ali
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, ২৩ মে ২০২৫ | আপডেট: ৫:১৭ পূর্বাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুইটি প্রশাসনিক ভবনসহ মোট ১২টি স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৯ তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা বদলালেও বদলায়নি সিটিজেন চার্টার: নেই কার্যকর মোবাইল-ইমেইল

পুনঃনামকরণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৈয়দ নজরুল প্রশাসন ভবন এখন থেকে পরিচিত হবে ‘প্রশাসন ভবন-১’ নামে এবং মনসুর আলী প্রশাসন ভবন এর নাম রাখা হয়েছে ‘প্রশাসন ভবন-২’। তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন এর নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘সিনেট ভবন’। একইসঙ্গে ড. কুদরত-ই-খুদা ভবন এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘জাবির ইবনে হাইয়ান ভবন’ এবং ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ভবন এখন পরিচিত হবে ‘জামাল নজরুল ভবন’ নামে।

আবাসিক হলগুলোর মধ্যে মুজিব হল এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বিজয়-২৪ হল’, এবং ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে :জুলাই-৩৬ হল’। অ্যাকাডেমিক ভবন হিসেবে কৃষি অনুষদ ভবন এর নাম সংক্ষিপ্ত করে রাখা হয়েছে ‘কৃষি ভবন’ এবং শেখ রাসেল স্কুল এখন পরিচিত হবে ‘রাবি মডেল স্কুল’ নামে।

আরও পড়ুন: আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিসে নিরাপত্তা প্রহরীর নিয়ন্ত্রণে দাপ্তরিক কাজ

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো শেখ কামাল স্টেডিয়াম এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘রাবি স্টেডিয়াম’। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রধান প্রবেশদ্বার—কাজলা গেইট এবং বিনোদপুর গেইট নতুনভাবে নামকরণ করা হয়েছে যথাক্রমে ‘শহীদ সাকিব আঞ্জুম গেইট’ এবং ‘শহীদ আলী রায়হান গেইট’ নামে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শুধুই প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি ২৪ এর  ছাত্র আন্দোলনের প্রতিফলন। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও গণতান্ত্রিক হওয়া উচিত। জুলাই আন্দোলন আমাদের সামনে সেই দাবি এনেছিল। পুরনো নামগুলো ছিল একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসের প্রতিনিধিত্বকারী, যেখানে বহু শিক্ষার্থীর মতামত উপেক্ষিত ছিল। এখনকার এই পরিবর্তন, বিশেষ করে শহীদ সাকিব আঞ্জুম ও শহীদ আলী রায়হানের নামে গেইটের নামকরণের মাধ্যমে তাদের আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ভবনের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত আগে নেওয়ার দরকার ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেইট, কাজলা গেইটসহ কয়েকটি ভবনের নাম পরিবর্তন বিষয়ে তাদের আরেকটু ভাবা উচিত। আমরা শিক্ষার্থীরা এ গেইট দুটিকে বিনোদপুর ও কাজলা নামেই চিনি। এছাড়াও ড. ওয়াজেদ মিয়া এবং ড. কুদরত-ই-খুদা ভবনের নাম পরিবর্তন অযৌক্তিক। তাদের তো কোনো দোষ ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, সিন্ডিকেট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। আমরা যে নামই নির্ধারণ করি না কেন, এতে সমালোচনা আসবেই। নির্মাণাধীন নতুন দুইটি হলের নাম পরিবর্তন করতে হলে যাবতীয় নথি পরিবর্তন করতে হবে। নির্মাণকাজ শেষ হলে আমরা এ দুটি হলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল মডেল স্কুল, শেখ কামাল স্টেডিয়াম, নির্মাণাধীন এএইচএম কামারুজ্জামান ও শেখ হাসিনা হলেরও নামফলক ভেঙে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সেদিনই তারা এসব স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবি জানান।