ধানের শীষের প্রার্থী নির্বাচনী জনসভা

ঐক্যবদ্ধ ও আধুনিক কাপাসিয়া গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন শাহ রিয়াজুল হান্নান

Sanchoy Biswas
এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ন, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৬ অপরাহ্ন, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নানের পক্ষে উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের আমরাইদে বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৬ জানুয়ারি, সোমবার বিকেলে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহ রিয়াজুল হান্নান। তিনি এ জনসভায় ঐক্যবদ্ধ ও আধুনিক কাপাসিয়া গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে বন্দুক ও গুলি উদ্ধার

উপজেলার রায়েদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. মতিউর রহমান জাফর এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদলের পরিচালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এফ এম এমদাদুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহের ছোট ভাই শাহ মোবারক হোসেন।

ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রাক্তন ভিপি, স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হাশেম বিপুল সংখ্যক সমর্থক নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে জনসভায় যোগ দেন। তিনি প্রায় ৩০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে চাঁদা না দেওয়ায় সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসীদের হামলা, নির্বিকার পুলিশ

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, জেলা যুবদল নেতা ইয়াসির আক্রাম পলাশ, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, টোক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ মাহমুদুল হক বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক রোকন, বারিষাব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা কফিল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মাস্টার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু, সদস্য সচিব জুনাইদ হোসেন লিয়ন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মতিউর রহমান মতি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরীহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলেন, বিগত দিনে আমার পিতাকে আপনারা ভোট দিয়ে এমপি ও মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি আপনাদের রাষ্ট্রীয় আমানত যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানালে পিতার রেখে যাওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। যে কোনো মূল্যে কাপাসিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবো।

উপস্থিত মা-বোনদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলেই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তাই সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখবো।

বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাই বিএনপি সাধারণ মানুষের ভোটের দাবি রাখে।

পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেয়নি। বিনা ভোটের সরকার দাবিদাররা বিগত দিনে এলাকায় কোনো উন্নয়ন করেনি। মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণসহ একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিল।

১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় প্রথমবার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে।

মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহের প্রতি এলাকার আপামর জনসাধারণের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই ‘ফকির মজনু শাহ সেতু’সহ এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি সব কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। তাই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।

দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলনে বিএনপিই নেতৃত্ব দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। তা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন নিশ্চিত হবে। হান্নান শাহ পরিবার বংশপরম্পরায় কাপাসিয়ার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শাহ রিয়াজুল হান্নান সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। সবাইকে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

দল সরকার গঠন করলে কাপাসিয়ায় পরিবেশবান্ধব কলকারখানা স্থাপন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং মা-বোনদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মহিলাদের বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে।

বড় বড় ব্যবসাকেন্দ্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ছোটখাটো পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এতে জমি ও সম্পত্তির দাম বাড়বে। সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।

আগামী নির্বাচনে দলের সব পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দল সরকার গঠন করলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।