চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি-জামায়াতের তীব্র লড়াই
চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত অপরূপ পাহাড়-সমুদ্র বেষ্টিত ভৌগোলিক বিশালত্ব আর রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পটভূমি চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড, আকবরশাহ ও পাহাড়তলী আংশিক) আসনটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এ আসনে যে দল থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছে সে দলই সরকার গঠন করেছে। এই বিবেচনায় আসনটি দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দূর্গ জয়ে জামায়াত প্রার্থীর অভিরাম প্রচারণায় দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতা। বিএনপির এই দূর্গ জয়ে জামায়াত প্রার্থীর নির্ঘুম প্রচারনায় ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভিন্ন ভাবনা। নির্বাচনী অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ জন। তম্মর্ধে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৮২০ জন, নারী ভোটার ২ লক্ষ ১২ হাজার ৪০৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ১২ জন। আর পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন ৪ হাজার ৫৩২ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৪ ও ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭৮৮টি। উল্লেখযোগ্য তরুণ ভোটার ছাড়াও ভোটারদের একটি অংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও রয়েছে জেলে সম্প্রদায়। ফলে এই আসনে নির্বাচনী প্রচারনায় যোগ হয়েছে বাড়তি আমেজ। আসনটিতে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৯জন। তবে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত অধ্যাপক মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকের মধ্যে। বাংলাদেশ জামায়াাতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী এবারই প্রথম এমপি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। আর বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ২০০৮ ও ২০১৮ সালের পর তৃতীয় বারের মতো দলীয় মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন। দলের সাবেক যুগ্ন মহাসচিব ও বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তিনি। নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক, ক্রিড়া, সেচ্ছাসেবী ও শিক্ষামূলক সংগঠনের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। আসনটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তরুণ ভোটারদের টানতে বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। বিএনপি তাদের এক সময়ের দুর্গ পুনরুদ্ধারে কোমর বেঁধে নেমেছে। বসে নেই জামায়াতও। উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন করে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন দু‘টিই বেড়েছে। আসন্ন নির্বাচনে বিষয়টি খুবই ইতিবাচক বলে মনে করছি। আর দলীয় প্রার্থীর বিজয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, দলীয় ভাবে অগ্রিম প্রার্থী ঘোষনায় নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ গণসংযোগের সুবাদে জামায়াাতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরীর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। তিনি আরো বলেন, গত ২ ফেব্রয়ারি সোমবার বিকাল ৩টায় সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা মাঠে দলীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধান অতিথি করে বিশাল জনসভার সফল করেছে জামায়াতে ইসলামী। জনসভায় বিপুল উপস্থিতি নেতাকর্মীদের বেশ উজ্জীবিত করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডা. কমল কদর বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রয়ারির নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ে বিএনপি নেতারা ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর সমর্থনে গণসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, অতীতের রাজনৈতিক পরিসংখ্যান বলছে চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বরাবরই বিএনপির অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আগামী নির্বাচনেও এমন ফলাফল অব্যাহত থাকবে। অধ্যাপক মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী বলেন, প্রতিদ্বন্ধী একটি রাজনৈতিক দল ভোটের মাঠের লড়াইকে প্রাধান্য না দিয়ে অপ-কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। যা মোটেই কাম্য হতে পারে না। তিনি আরো বলেন শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে এ দেশের মুক্তিকামী জনতা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই অদম্য সাহসী জাতি কখনও হারেনি। আগামীতেও হারতে পারে না। তিনি আরো বলেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা ঐতিহ্যগত ভাবেই বিএনপির অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আগামীতে সুযোগ আসলে প্রত্যেকটি এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, পর্যটন, পরিবেশ-জলবায়ূ, তথ্য-প্রযুক্তিসহ সর্বক্ষেত্রেই আমাদের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: 'নির্বাচন আকাশে যাবে, ভোটের বাক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে'
আরও পড়ুন: যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ গুলি ও মাদক উদ্ধার, আটক ২





