শেরপুর ইসলামী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকের ভুল চিকিৎসায়-থানায় অভিযোগ

Shahrier Islam Pallab
রায়হান পারভেজ, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫২ অপরাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়া শেরপুরে বেসরকারি ইসলামী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার  হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চিকিৎসা সেবায় অবহেলা এবং প্রতিকার চাইতে গিয়ে হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে উক্ত ডাক্তারের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে এবং ছাড়পত্রে কোন ডাক্তারের সহি এবং স্বাক্ষর ছিল না।

এতে উক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার চেয়ে   ভুক্তভোগী রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মেয়ে আফরোজা আক্তার লিপি শেরপুর থানায় ও পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক, বগুড়ার সিভিল সার্জন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অনুলিপি দায়ের করেছে।

আরও পড়ুন: ওসি ধুনটের বিরুদ্ধে এবার ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্ট ও অর্থ নেয়ার অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে ও উক্ত হাসপাতালের ছাড়পত্র সূত্রে জানা যায় যে, শেরপুর উপজেলার ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফরোজা আক্তার লিপির মা ফুয়ারা বেগমকে (৬৫) গত ২রা জুলাই ২০২৬ইং তারিখে শেরপুর ইসলামী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরদিন ৩রা জুলাই সকাল ১১টায় ডা. সোহেল আক্তারের অধীনে তার পাইলসের অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতালের ছাড়পত্রে অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি হিসেবে "স্ট্যাপলড হেমোরয়েডেকটমি (লঙ্গো) উইথ মিউকোপেক্সি" উল্লেখ রয়েছে। গত ৫ই জুলাই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তবে উক্ত ডাক্তারের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে এবং ছাড়পত্রে কোন ডাক্তারের সহি এবং স্বাক্ষর ছিল না। উক্ত চিকিৎসা সেবাটি প্রকৃত অর্থে কোন ডাক্তার করেছেন নাকি হাতুড়ে কোন ব্যক্তির দ্বারায় করা হয়েছে, তা সুস্পষ্ট নয়।

এতে ভুক্তভোগী রোগীর পরিবার দাবি করে যে, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করানো হলেও তার শারীরিক অবস্থার প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। বরঞ্চ বাড়িতে নেয়ার পর বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে তিন থেকে ৪/৫ বার ফলো আপের জন্য নেয়া হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে স্বজনেরা বগুড়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অন্য এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেখানে চিকিৎসা নেয়ার পর রোগী বর্তমানে কিছুটা সুস্থ্য হলেও এখনো জটিল আশংকা জনক ভাবে শারীরিক সমস্যায় নিয়ে ভুগছেন বলে পরিবারের দাবি।

আরও পড়ুন: আদর্শ স্কুলের ২০০১ ব্যাচের জমজমাট পুনর্মিলনী

এদিকে বাদী রোগীর মেয়ে আফরোজা আক্তার লিপি অভিযোগ করে বলেন যে, “আমার মায়ের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী শারীরিক সমস্যা ও চিকিৎসার বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক শাহিন আলম এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তারা সহযোগিতা না করে বিভিন্ন ভাবে তালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে হুমকি-ধামকিরও শিকার হতে হয়। আমরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায় বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন যে, গত ৩১শে অক্টোবর শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক, বগুড়ার সিভিল সার্জন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন ও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে শেরপুর ইসলামী হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহিন আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সেখানে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ও থানায় লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান যে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ভাবে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।

এবিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন (৩রা নভেম্বর) মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং বলেন যে, উক্ত হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ও হয়রানির অভিযোগে ভুক্তভোগী রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।