গণভোট ইস্যুতে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে যা বললেন সাদিক কায়েম
বাংলাদেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দেশব্যাপী বিভাগীয় গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দেশের পাঁচটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদসমূহ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’-এর প্রতিনিধিরা।
ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডাকসু সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জুলাইয়ের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা যে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছে, গণভোট সেই স্বপ্নকে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে জুলাইয়ের অসমাপ্ত বিপ্লব একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে ‘মঞ্চ ২৪’ এর ৫ দফা আল্টিমেটাম
বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘হ্যাঁ’ মানে কেবল একটি ভোট নয়—‘হ্যাঁ’ মানে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন সমাজ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান। গণভোট জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে তারা বলেন, ভয়মুক্ত ও সচেতন পরিবেশেই এই অধিকার অর্থবহ হয়ে ওঠে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)—সম্মিলিতভাবে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ ব্যানারে বিভাগীয় শহরগুলোতে গণজমায়েত আয়োজন করবে বলে জানানো হয়।
আরও পড়ুন: গবিতে প্রথমবার ধর্ম ও সংস্কৃতির সম্মিলিত আয়োজন
সংবাদ সম্মেলনে প্রথম কর্মসূচি হিসেবে সিলেট বিভাগীয় গণজমায়েতের ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় সিলেটের বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্টে এ গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে।
বক্তারা জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগীয় শহরে একই ধরনের গণজমায়েত আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচিতে পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাগণ, বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিসহ শিক্ষক, চিকিৎসক এবং পেশাজীবী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
দলমত নির্বিশেষে সারাদেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচিগুলো সফল করার আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।র করা হয়।





