দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে কাজ করার আহ্বান তারেক রহমান

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ন, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:২১ অপরাহ্ন, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করতে সকলকে ‘একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান।

মঙ্গলবার বিকেলে সার্কিট হাউজ মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান এই আহ্বান করেন।

আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট: ডা. শফিকুর রহমান

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। তরুণ-যুবক যারা আছে তারা বইয়ের পাতায় পড়েছেন, মুরুব্বি যারা আছেন, আমাদের বয়সী যারা আছেন তারা দেখেছেন, জানেন—সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরবর্তীতে ’২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশের ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।”

“সেই একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, ’২৪-এর আন্দোলনই হোক—কে পাহাড়ি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ—এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে, একাত্তর সালে যুদ্ধে সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছে। কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ—কেউ দেখেনি। এবারও ১২ তারিখের নির্বাচনে আমাদের সকলকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একসাথে থাকতে হবে।”

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে পৌঁছেছেন তারেক রহমান

তারেক রহমান এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা যদি একসাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা যদি একসাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বৈরাচার বিদায় করেছি, আমরা যদি ইনশাল্লাহ সামনের দিনে একসাথে থাকি, তাহলে অবশ্যই এই বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যেতে পারব।”

“সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে স্লোগান হবে একটাই। সেটা হলো—করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সবার মনে রাখতে হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

“আসুন, আমাদের আজকের শপথ হোক—আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করব, আমরা বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে রূপান্তরিত করব। শেষ কথার এক কথায়—করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”

বিএনপি চেয়ারপারসন ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুরের বিএনপি দলীয় ২৩ প্রার্থীকে ধানের শীষ হাতে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমি আপনাদের দায়িত্ব দিলাম—তাদেরকে বিজয়ী করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।”

সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তারেক রহমান দুপুরে সড়কপথে ময়মনসিংহ আসেন। সার্কিট হাউজের বিশাল মাঠে ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর—এই চার জেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

ঢাকা থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহ শহরে পৌঁছান সাড়ে তিনটায়। ভিড় ডিঙিয়ে তার গাড়িবহর সার্কিট হাউজ মাঠে পৌঁছাতে নিরাপত্তাকর্মীদের বেগ পেতে হয়। মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানও ছিলেন।

এরা হলেন—ময়মনসিংহ-১ আসনের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ-২ আসনের মোতাহের হোসেন তালুকদার, ময়মনসিংহ-৩ আসনের এম. ইকবাল হোসেন, ময়মনসিংহ-৪ আসনের আবু ওয়াহাব আখন্দ ওয়ালিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৬ আসনের আখতারুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ আসনের মাহবুবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুতফুল্লাহেল মাজেদ, ময়মনসিংহ-৯ আসনের ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১০ আসনের আখতারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ-১১ আসনের ফকর উদ্দিন আহমেদ, নেত্রকোনা-১ আসনের কায়সার কামাল, নেত্রকোনা-২ আসনের আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনের রফিকুল ইসলাম হেলালী, নেত্রকোনা-৪ আসনের লুৎফুজ্জামান বাবর, নেত্রকোনা-৫ আসনের আবু তাহের তালুকদার, জামালপুর-১ আসনের রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুর-২ আসনের সুলতান মাহমুদ বাবু, জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর-৪ আসনের ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, জামালপুর-৫ আসনের শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন, শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন, শেরপুর-২ আসনের মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবং শেরপুর-৩ আসনের মাহমুদুল হক রুবেল।

ভোরবেলা ভোটকেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “ভোট শুরু হবে, সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেওয়া ইনশাল্লাহ শুরু করবেন। কিন্তু ভোট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসলে চলবে না।”

“কি করতে হবে? ভোটকেন্দ্রের সামনে থাকতে হবে। কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিয়ে আসতে হবে। কেন এই কথাটা বললাম—বহু বছর হয়ে গেছে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। এর আগে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে ভোট লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এবার আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে কেউ আমাদের ভোট লুটপাট করে নিতে না পারে।”

উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পারবেন তো পাহারা দিয়ে সতর্ক থাকতে?” সমস্বরে সবাই ‘হ্যাঁ’ বললে তারেক রহমান বলেন, “ইনশাল্লাহ।”

নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, সকলের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড, বেকার সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থাসহ সরকার গঠন করলে কী কী করতে চান—তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।

দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ-৫ আসনের প্রার্থী জাকির হোসেন বাবুলের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সদস্যসচিব রুকুনুজ্জামান সরকার ও উত্তর জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে ২৩ আসনের প্রার্থীদের ছাড়াও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমসহ জেলা ও মহানগরের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

ময়মনসিংহের সমাবেশ শেষ করে পরবর্তী নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে গাজীপুরের রাজবাড়ী কলেজ মাঠে।