১০টি বিগ্রহসহ বিপুল মালামাল লুট
নাসিরনগরে প্রাচীন শ্রী শ্রী পাগল শংকর মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক গ্রামে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) পরিচালিত শ্রী শ্রী পাগল শংকর মন্দিরে ২৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সংঘটিত হয়েছে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা।
চোরেরা মন্দির থেকে ১০টি বিগ্রহ, হারমোনিয়াম, সাবমারসিবল পাম্প, নগদ অর্থসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ম্যান্ডেলার নির্বাচনী সংবাদ সম্মেলন
মন্দিরের অধ্যক্ষ সুখদা বলরাম দাস জানান, “সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার পর চোরেরা মন্দিরে প্রবেশ করে। মন্দিরে থাকা সব বিগ্রহ তারা নিয়ে গেছে। এর মধ্যে পিতলের, পাথরের এবং একটি শ্বেত পাথরের বিগ্রহ ছিল। পাশাপাশি পিতলের থালা-বাটি, হারমোনিয়াম, পূজার সরঞ্জাম, সাবমারসিবল পাম্প, সেবায়েত এক নারীর বিধবা ভাতার টাকা এবং মন্দিরের দানবাক্সের সব অর্থ চুরি করে নিয়ে যায়। গৌর-নিতাই, রাধা-মাধব, গোপালসহ মোট ৮–১০টি বিগ্রহ চুরি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ভোর ৪টার দিকে প্রার্থনার জন্য মন্দিরে এসে চুরির ঘটনা জানতে পারেন এবং বর্তমানে সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
মন্দির কমিটির সেক্রেটারি স্বপন কুমার রায় বলেন, “ভোর সাড়ে চারটার দিকে সেবায়েতের ফোন পেয়ে দ্রুত মন্দিরে এসে দেখি সবকিছু এলোমেলো। চুরির ভয়াবহতা দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই।”
আরও পড়ুন: যশোর বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬ অনুষ্ঠিত
চুরির খবর পেয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনা নাছরিন, নাসিরনগর থানার তদন্ত ওসি কৃষ্ণ লাল ঘোষ, সেকেন্ড অফিসার সোহেল শিকদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম এ হান্নান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান মামুনসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনা নাছরিন বলেন, “খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে অবস্থান করছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মন্দিরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের শনাক্ত করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
উল্লেখ্য, মুঘল আমলে বাংলা ১৩৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রী শ্রী পাগল শংকর মন্দিরটি ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লক্ষ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর অন্যতম প্রধান উপাসনালয়। এর আগেও ২০১৭ সালের ৪ মার্চ শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউ মন্দির থেকে পাঁচটি পিতলের মূর্তি, একটি প্রাচীন কালো পাথরের মূর্তি, হারমোনিয়াম, করতাল এবং দানবাক্সের দেড় হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছিল।





