চবির বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত শাহ আমানত হলে কলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের অবস্থান: হল সংসদের ক্ষোভ

Sanchoy Biswas
মো সাবিত বিন নাছিম, চবি
প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ন, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩১ অপরাহ্ন, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেধাভিত্তিক সিট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। নির্ধারিত মেরিট না থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ আবাসিক হলে অবস্থান করছেন, এতে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হল সংসদ ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টির কলা অনুষদের বাংলা বিভাগের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মারুফ এবং ইতিহাস বিভাগের ২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অমিত হাসান ও একই বিভাগের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কাজী শিহাব কোনো আনুষ্ঠানিক সিট বরাদ্দ ছাড়াই শাহ আমানত হলের ১০৭ নম্বর এবং হলের এক্সটেনশন ভবনের বি–৪ নম্বর কক্ষে 'গ' নং সিটে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। অথচ ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: গবিতে প্রথমবার ধর্ম ও সংস্কৃতির সম্মিলিত আয়োজন

এছাড়াও প্রায় এক মাস আগে অমিত হাসান ও কাজী শিহাবকে শাহ আমানত হল সংসদ হল থেকে বের করে দেয়। এরপরও তারা পুনরায় হলটিতে অবস্থান শুরু করেন। তারা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়টির কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের শিক্ষার্থী হলেও বিজ্ঞান অনুষদের জন্য অনুমোদিত শাহ আমানত হলে অবস্থান করে আসছেন।

উপরোক্ত শিক্ষার্থীদের আশেপাশের কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী অমিত হাসান ও কাজী শিহাবের আচরণ অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো ছিল না। তারা ছিলেন উদ্ধত, অসামাজিক এবং আবাসিক হলের নিয়মকানুনের প্রতি উদাসীন।

আরও পড়ুন: ঢাবি প্রশাসনকে পাল্টা শোকজের ঘোষণা দিলেন সর্ব মিত্র চাকমা

জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেধাভিত্তিক সিট বরাদ্দের ঘোষণা এলেও বাস্তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ব্যক্তিগত পরিচয় ও প্রভাবের মাধ্যমে মেরিটের পিছনে থাকলেও কেউ কেউ হলে অবস্থান করছে এবং মেরিটে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা আবাসন ব্যবস্থার বাইরে থেকেই পড়াশোনা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ বিষয়ে শাহ আমানত হল সংসদের জিএস আবিদ বলেন, "আমাদের নজরে আসা মাত্রই আমরা মিটিং করে সিট হোল্ডারকে ফোন দিয়ে অবস্থানরত দুই শিক্ষার্থীকে হল ছেড়ে দিতে বলি। তারা চলে গেলেও আবারও কয়েকদিন পর ফিরে আসে।" তিনি আরও বলেন, "শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হল প্রশাসন এক্ষেত্রে কিছুটা উদাসীন। হলে সঠিক খালি সিট প্রকাশের সংখ্যা নিয়েও হল প্রশাসন গড়িমসি করেছে।"

এ বিষয়ে হলটির এক্সটেনশনে অবস্থানকারী অমিত হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কাজী শিহাবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি এক্সটেনশন বিল্ডিংয়ের বি–৪ রুমের 'গ' নং সিটে ২/১ দিন অবস্থান করেছিলাম। বাসা না পাওয়ার কারণে ওইখানে ছিলাম। আমাকে হল সংসদ বের করে দেয়নি, আমি নিজেই চলে এসেছি। তবে কয়েকদিন অস্থায়ীভাবে অবস্থান করলে প্রভোস্টের অনুমতি লাগে না। প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়া যে কেউই অবস্থান করতে পারবে।"

মোস্তাফিজুর রহমান মারুফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি কোথাও সিট না পাওয়ার কারণে ১০৭ নাম্বার রুমে ডাবলিং-এ অবস্থান করছি। তবে আমার কাছে প্রভোস্টের অনুমতি নেই। আমি সিট প্রত্যাশী হিসেবে প্রশাসনের নিকট আবেদন করেছি।"

এদিকে শাহ আমানত আবাসিক হলের প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন কিনা, এ বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে এবং অনুমোদিত সিট ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

শাহ আমানত হল প্রভোস্টের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও চৌধুরী মোহাম্মদ মুনিরুল হাসানের সাড়া পাওয়া যায়নি।