মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাল মার্কিন রণতরী, ইরান ও হিজবুল্লাহর পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ন, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫২ অপরাহ্ন, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও এর সহায়ক যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকম জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই নৌবহরটি মোতায়েন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্তমান মোতায়েনকে সেই ঘোষণারই বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: তীব্র শীত ও ভয়াবহ তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ জনের মৃত্যু

এই রণতরী মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে করে অঞ্চলজুড়ে একটি বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সামরিক শক্তিবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় ইরানও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, রণতরী মোতায়েন করে ইরানকে তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংকল্প থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের জবাব হবে কঠোর ও দাঁতভাঙা।

আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: প্রায় ৫০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত

তেহরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর যেকোনো হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং এর পরিণতি হবে ‘অনুতাপ উদ্রেককারী’। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলাকে হিজবুল্লাহ নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং এই সংঘাতে হিজবুল্লাহ নিরপেক্ষ থাকবে না।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে দেবে না। আবুধাবির আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি থাকলেও আমিরাতের এই অবস্থান কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, শুধু নৌবহর নয়—এই অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিমান শক্তি মোতায়েনের সক্ষমতা প্রদর্শনে একটি সামরিক মহড়ার ঘোষণাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও তা দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সামরিক চাপ মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও পুরো অঞ্চলজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি ও বিধ্বংসী সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।