ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কি ক্ষতি করছে আপনার ঘুম ও স্বাস্থ্যের?
ঘুমিয়ে পড়ার আগে শেষ কাজটি কী করেন—ফোন দেখা, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল, কল করা কিংবা টেক্সট করা? আধুনিক জীবনে এটি অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। দেখতে নিরীহ মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম আপনার ঘুম ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
ঘুমের ওপর স্ক্রিন টাইমের প্রভাব
আরও পড়ুন: গর্ভাবস্থায় এড়ানো উচিত সাধারণ ৫টি ভুল, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে। এতে মস্তিষ্ক মনে করে এখনও দিনের আলো রয়েছে। ফলে ঘুমের জন্য জরুরি হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমে যায় এবং শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ ব্যাহত হয়। অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না, তবে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করলেও ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। এতে ঘুমের সময় পিছিয়ে যায় এবং ঘুমের গভীরতাও কমে।
অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ছে
আরও পড়ুন: যে পোশাকগুলো কখনোই ওয়াশিং মেশিনে দেওয়া উচিত নয়
ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহারের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো অনিদ্রা। রাতে উজ্জ্বল আলো ও উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট দেখার কারণে মস্তিষ্ক অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে। এতে শরীর ও মন শান্ত হতে চায় না, যা দীর্ঘমেয়াদে অনিদ্রার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ক্রিন টাইম সরাসরি মস্তিষ্কের গঠনগত ক্ষতি না করলেও এর কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিন এ অভ্যাস চলতে থাকলে উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ ও মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে।
এর পাশাপাশি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখে চাপ, মাথাব্যথা, বিরক্তি ও সারাদিন ক্লান্ত লাগার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমনকি পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও গভীর ও REM ঘুম কম হওয়ায় ঘুমের মান নষ্ট হয়।
সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
ঘুমের আগে নিয়মিত স্ক্রিন টাইম শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন কম বা নিম্নমানের ঘুম ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের সঙ্গে জড়িত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম কমানো এবং একটি স্বাস্থ্যকর ‘স্লিপ রুটিন’ গড়ে তোলাই হতে পারে ভালো ঘুম ও সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।





