উত্তরবঙ্গে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে : জামায়াত আমির

Sanchoy Biswas
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩৫ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১০ দলীয় জোটের প্রধান নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে, উত্তরবঙ্গে কৃষি শিল্পের রাজধানী হবে দিনাজপুর। দিনাজপুর শহরকে আধুনিক সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত করা হবে। সারা দেশের মধ্যে দিনাজপুরের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। তারা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পান না। ফসল ঘরে উঠলেই কম দামে হলেও তারা ফসল বিক্রি করে দেন। ফলে ন্যায্য দাম থেকে সব সময় বঞ্চিত থাকেন।’

গতকাল দুপুরে দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ধর্মের অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেস্টা আইনত অপরাধন: মাহ্দী আমিন

দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

বিশেষ অতিথির ও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লা, শিবিরের সাবেক সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ, দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, দিনাজপুর-৫ আসনের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা ডা: আব্দুল আহাদ, দিনাজপুর-২ প্রার্থী অধ্যক্ষ এম আফজালুল আনাম, দিনাজপুর-৩ আসনে প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম, দিনাজপুর-১ আসনের প্রার্থী মো: মতিউর রহমান, দিনাজপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মুজিবুর রহমান, জুলাই যোদ্ধা একরামুল হক আবির প্রমুখ।

আরও পড়ুন: মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে ধ্বংস হয়েছে এলাকা: মির্জা আব্বাস

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাদ্দিস এনামুল হক।

এর আগে আজ বেলা ১১টার দিকে গোর-এ শহীদ ময়দানে নির্বাচনের জনসভার কাজ শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে মিছিল সহযোগে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীরা সমাবেশ স্থলে আসেন। জুমার নামাজের পর জনসভার ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।পরে জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলা ২:৩০ মিনিটে জনসভা স্থলে পৌঁছান। এ সময় জনসভায় যোগ দেয়া কর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে যায় পুরো ময়দান।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চল সবসময় অবহেলিত ছিল। এই অবহেলিত অঞ্চলের মধ্যে দিনাজপুর ছিল অন্যতম। দেশের উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের এক ভাগ দিনাজপুরে অঞ্চল থেকেই দেশে ফসলের যোগান দেয়। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বৈষম্যের অবসান শুরু হয়েছে। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর পেশা বৈষম্য দূর করা হবে। বৈষম্য দূর করা হবে ধর্ম বর্ণের। সবাই একসাথে থাকতে চাই। একটি বাগানের যেমন সব ধরনের গাছ নিয়ে বেড়ে উঠে, তেমনি এই দেশেই সকল মানুষকে নিয়ে উন্নত ভবিষ্যত তৈরি করতে চাই, আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।

তিনি আরো বলেন, দিনাজপুরে গণঅভ্যুত্থানে ১১ জনসহ সারাদেশে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। আহত হয়েছেন অনেক। তাদের অবদানের শুকরিয়া আদায় করেন। ২৪ এর জুলাই আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আপনারা যে যুদ্ধ করেছেন এরকম আরেকটি যুদ্ধ বাকি রয়েছে। যুদ্ধটি হচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা সহ জোটের সকল প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

জামায়াত আমির বলেন, ‘জুলাই না হলে আজ আমরা দাঁড়াতে পারতাম না। প্রকাশ্যে কথা বলতে পারতাম না। নির্বাচন হতো না। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশে আর ফ্যাসিস্ট জন্ম না নেয় এর জন্য সৎ মানুষদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে।’

সমাবেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য ডা: শফিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে :  বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে। গতকাল দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে আগামী দিনে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না আমরা। প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হবে। 

জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের কোনো কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ায় আমরা দয়ার পাত্রমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। 

তিনি দাবি করেন, দেশবাসীকে বিপদের সময় ফেলে তারা কোথাও যাননি, ভবিষ্যতেও যাবেন না।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের কোনো জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না এবং পঞ্চগড়েও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে।

অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।

জনসভায় শহীদ পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, তাদের কাছে জামায়াত ঋণী এবং সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সেই ঋণ শোধের চেষ্টা করা হবে।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির। 

জনসভায় পঞ্চগড়-১ আসনের ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি প্রতীক এবং পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিকুল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।

দেশের কোনো জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের কোনো জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। ঠাকুরগাঁতেও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। গতকাল বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, সৎমায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ থেকে আগামী দিনে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না আমরা। প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, দেশবাসীকে বিপদের সময় ফেলে তারা কোথাও যাননি, ভবিষ্যতেও যাবেন না।

জনগণকে উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের কোনো কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ায় আমরা দয়ার পাত্রমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই।’ স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের কোনো জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। ঠাকুরগাঁতেও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে।’

দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করা হবে। ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।’ ভোটাধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।