ট্রাম্পকে শায়েস্তা করতে কঠোর পথে ইউরোপ, বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন স্থগিতের সিদ্ধান্ত
ডেনমার্কের অধীনস্থ গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনাকর হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থানের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে গত জুলাই মাসে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির ঘনিষ্ঠ সূত্র। খবর বিবিসির।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সতর্কতা জারি, ভ্রমন এড়ানোর পরামর্শ
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়বে। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এবং নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার আটলান্টিকের উভয় পাশেই শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলো টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নিম্নমুখী ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ডাও জোন্স সূচক ১ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ দুই শতাংশের বেশি এবং নাসদাক সূচক প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে বন্ধ হয়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় খামেনি সরানো হয়েছে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ উত্তেজনার প্রভাবে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাজারগুলোতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। জাপান ও হংকংয়ের প্রধান সূচক কিছুটা কমলেও চীন ও হংকংয়ের কিছু শেয়ারে সীমিত ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে। মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলার প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও আগের রাতে এর মান ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে, যা ডিসেম্বরের শুরু থেকে এক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের স্কটল্যান্ডের টার্নবেরি গলফ কোর্সে গত জুলাইয়ে হওয়া চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা ছিল, যা আগে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও কিছু সংস্কারে সম্মত হয়।
তবে এই চুক্তি কার্যকর করতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকির পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী জার্মান সদস্য মানফ্রেড ওয়েবার স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে চুক্তি অনুমোদনের কোনো সুযোগ নেই।’
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্ন্ড লাঙ্গে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি ও শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কারণে চুক্তি স্থগিত করা ছাড়া ইউরোপের আর কোনো বিকল্প নেই। তার মতে, একটি ইইউভুক্ত দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র ইইউ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমেয়তা নষ্ট করছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাল্টা শুল্ক আরোপের পথও খুলে যেতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কের জবাবে প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছিল ইইউ, যা সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। চুক্তি অনুমোদিত না হলে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুল্ক কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





