‘লবেলিয়া’র চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন
ফাসিস্টের শিকড় সমূলে উৎপাটন করতে না পারলে তা ফিরে আসার আশঙ্কা রিজভীর
‘গণতন্ত্র ও মানুষ হত্যাকারী’ পরাজিত শক্তি আবার ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আমরা ফ্যাসিস্টকে পরাজিত করতে পেরেছি কিন্তু তাদের শিকড় রয়ে গেছে। সেই শিকড়কে সমূলে উৎপাটন করতে না পারলে আমরা আবারও গণতন্ত্র হারিয়ে ফেলব, আবারও দেশের মানুষ গুম-খুন-নিপীড়নের শিকার হবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার অডিটরিয়ামে চিত্রকলা ও চিত্রশিল্পীদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লবেলিয়া’ আয়োজিত সাতদিন ব্যাপী এক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: যুবদলের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ যুবদলের ফুলেল শুভেচ্ছা
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘লবেলিয়া’র কর্ণধার বেনজির আহমেদ টিটো। চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ডাক ও তার, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একুশে পদক প্রাপ্ত চারুকলার শিক্ষক ও চিত্রশিল্পী অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১ আসনের এমপি খন্দকার আশফাক আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান খান দিপু ভূইয়া, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভির আহমেদ রবিন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন কাওছার হোসেন চঞ্চল, শিল্পকলার মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদকে সমূলে উৎপাটন করতে হলে দেশে একটি বিশাল শক্তিশালী কর্মীবাহিনীর প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রিজভী আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে কত ধরনের রূপ আমরা দেখেছি অতীতে। আয়নাঘর তৈরি করে রিমান্ডের নামে অত্যাচার করা পায়ের নখ তুলে ফেলা, আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলা, হাতের আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলা হয়েছে। পুলিশ ভাইকে খুঁজতে গেছে ধরে নিয়ে আসার জন্য কিন্তু বোনের বিয়ের জন্য গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান চলছে, ভাইকে না পেয়ে সেই হলুদের অনুষ্ঠান থেকে বোনকে তুলে নিয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন: বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রদল সহ সভাপতি ডাঃ আউয়ালের নেতৃত্বে মিছিল
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ফেরাতে কি বিপদ গেছে আমরা কিন্তু ভুলে যাচ্ছি ! আমরা ১৭ বছরের যে এই পৈচাশিকতা আমরা ভুলে যাচ্ছি। এই ঘটনা এই দেশেই চলেছে কিন্তু ২৪’র ৫ আগস্টের অশেষ রহমত যে পরিবর্তন। আমার তো মনে আছে যখন সাংস্কৃতিক কর্মীবাহিনী শিল্পীরা রাস্তায় নামলো সন্তানদের সাথে সন্তানের বাবা-মায়েরা নামলো এবং আমি যেদিন গ্রেফতার করি ১৯ আগস্ট শুক্রবার। বিএনপির একটি কর্মসূচি ছিল বিকেল তিনটার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে একটা সমাবেশ করব। সেইজন্য আমি প্রেসক্লাবের দিকে এগুচ্ছি। চারিদিকে আপনার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেও আমি ন্যাম ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে দেখছি যে কিছু সাংস্কৃতিক কর্মী। আমি দূর থেকে দেখলাম পথনাটক হচ্ছে। গণতন্ত্র মুক্তিপাক লেখা আছে। তারা কমপক্ষে গণতন্ত্রের পক্ষে কেউ কাজ করছে। এই কর্মী কারা, আমি এখনো জানি না তারা কোন রাজনৈতিক দল করে কীনা? কিছুক্ষণ তোদের সঙ্গে অবস্থান করে আবার মোটরসাইকেল পিছনে বসে আমি গেলাম প্রেসক্লাবে। তারপর সেখান থেকে আমি গ্রেপ্তার হয়ে চলে গেলাম জেলে। তো এই যে মানে সাংস্কৃতিক কর্মীরা, শিল্পী এবং সাহিত্যিকরা যখন নামে তখন কিন্তু জনগণের যে আল্টিমেট শক্তি এবং এটা যে এটম বোমার চাইতে বড় শক্তি সেটা আমরা প্রমাণ দেখলাম এই ৫ আগস্টের পরিবর্তন। কিন্তু আমাদের এখন দেখতে হবে এই যে আমরা বেশ কিছু গান বেশ কিছু কবিতা বেশ কিছু শিল্পকর্ম পেইন্টিং এগুলো হয়েছে। কিন্তু এই ১০/১২ দিনের মধ্যে কিন্তু হয়েছে তারপরে নানা দেয়াল লিখন ফিরে এসেছে। জেলখানা থেকে বের হয়ে আমি দেখলাম যে এই আন্দোলনের মধ্যে একটা সাংস্কৃতিক আন্দোলনও তীব্র দানা বেঁধেছে এবং তারা দারুণভাবে কাজ করেছে। এবং ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু এখানে আমাদের বসে থাকতে চলবে না, যাতে আবার পুনরজাগরণ না ঘটে পুনরুত্থান না ঘটে এই কারণে আমাদের অব্যাহত শিল্পচর্চা করতে হবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অনুষ্ঠানের আয়োজক বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো সম্পর্কে বলেন, টিটো এ ধরনের অনুষ্ঠান কেন করে আমি জানিনা। আমি যে ছাত্র সংগঠন করতাম সে একই ছাত্র সংগঠন করত। তার মতো ছেলে খুব কম পেয়েছি। মানে ভালো ছেলে পেয়েছি যে দেশপ্রেমের অনুভূতি সম্পন্ন নেতা পেয়েছি। ব্যাপকভাবে পেয়েছি ‘৯০’র দশকটা। সারা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই এই চিন্তাধারার এই জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার ছাত্র সংগঠন বিপুল সমাবেশ তৈরি হতো। তারা আছে। কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হওয়া খুব কম পেয়েছি। আমি আগে জানতাম শিল্প সাহিত্যের সাথে তার যে সম্পৃক্ততা এটা কোথা থেকে কোন আমি জানি নিজেই বলেছে এফ্লুয়েন্ট পরিবারের ছেলে, সচ্ছল পরিবারের ছেলে। ওর বাবা বড় ব্যবসা করতেন সেও করে। কিন্তু এই শিল্পমনা হল কি করে, আর্ট কিভাবে ওর মধ্যে যুক্ত হল এটা বলা আমার পক্ষে খুব বুঝতে কঠিন পরে।
রিজভী বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক এবং রাজনৈতিক দর্শনের জনক তিনি বলেছেন যে, শত্রুপক্ষকে সমূলে উৎপাটিত করতে হলে পরে আমাদের একটি সাংস্কৃতিক কর্মী বাহিনী দরকার। একটি রাজনৈতিক দলের সাংস্কৃতিক কর্মী বাহিনী যদি থাকে তাহলে আমরা আমাদের শত্রুপক্ষকে পরাজিত করতে সক্ষম। সেটা কি শিকড়সহ। শিকড়সহ কথাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আমরা অনেক সময় পরাজিত করতে পারি কিন্তু শিকড় থেকে যায়, সেখান থেকে যেমন ফ্যাসিস্ট পরাজিত হয়েছে কিন্তু শিকড় রয়ে গেছে। শিকড়সহ তাকে আমরা যদি তাকে উৎপার্টিত করতে না পারি তাহলে আবার নতুন করে জেগে উঠতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়েছে বাংলাদেশেও হয়েছে। সেই কারণে আমাদের দরকার একটা সাংস্কৃতিক কর্মীবাহিনী এবং ব্যাপক আকারের। সাংস্কৃতিক একটা চেতনা সম্পন্ন জনগোষ্ঠী। তাহলে পরাজিত শক্তি আমি বলব যারা সার্বভৌমত্ব স্বাধীনতা গণতন্ত্রের বিরোধিতা করেছে ধ্বংস করেছে এবং ধ্বংস করতে গিয়ে তারা নিজের দেশের জনগণের বহু নাগরিককে নির্মমভাবে অদৃশ্য করেছে গুম করেছে করছে, বিচার বহির্ভূত হত্যার নামে কত যে তারা খুন যখন করেছে তার কোন সুতরাং এই শক্তির পুনরুত্থান যাতে না হয় সেই কারণে আমাদেরকে সকলে তাদের যে সাংস্কৃতিক যে শিকড়, সেই শিকড়সহ আমাদেরকে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, আমি কোন ব্যক্তি মানুষের কায়িক অস্তিত্বকে বিনাশ করার কথা বলছি না। এদের যে সাংস্কৃতিক চেতনার যে গভীরতা সেখান থেকে তুলে ফেলতে না পারি আপনি টিকে থাকার কোন কারণ নেই। তারা নিঃসন্দেহে নানা কারণে নানা দুর্বলতার সুযোগে ফিনিক্স পাখির মত নিজের ভাষ্য থেকে নিজের ছাই থেকে জন্ম নেওয়ানোর চেষ্টা করবে। কারণ তাদেরকে মদদ দেওয়ার জন্য অনেক লোক আছে, অনেক দেশ আছে; অনেক শক্তি আছে। তারা সেখান থেকে আশ্রয় পায়। তারা সেখান থেকে মদদ পায়। আবার নতুন করে জেগে উঠার চেষ্টা করছে।
রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক চেতনার আবহে সবাইকে প্রয়েঅজন আমরা মনে করি যে এখানে সবারই অবস্থান থাকা দরকার। এটা আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে তাদের সঙ্গে কি করে সহবস্থান? আজকে জার্মানিতে হিটলারের রাজনৈতিক দল নাৎসিকে তাকে আবার রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হতো নিঃসন্দেহে পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তারা আবার ক্ষমতায় আসতো। কিন্তু সেই সুযোগ জার্মানির জনগণ এবং সেখানকার রাজনৈতিক দল সেখানকার বুদ্ধিজীবী একইভাবে ইতালিতে যার কারণে আজও জার্মানি গণতন্ত্র টিকে আছে ইতালিতে গণতন্ত্র টিকে আছে। আমাদেরকে এই দৃষ্টিভঙ্গিটা গ্রহণ করতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গিটা হচ্ছে এটাই যে সকলেরই কথা বলার অধিকার আছে কিন্তু হত্যাকারীর কথা বলা অধিকার নেই। এই পার্থক্যটা আমরা না বুঝতে পারলে আমাদের আবার ক্ষতি হবে।
ডিএনএ ও জেনিটিক্যালী আওয়ামীলীগ গণতন্ত্র হত্যাকারী ফ্যাসিস্ট চরিত্রের অধিকারী মন্তব্য করে রিজভী আহমেদ বলেন, ১৯৭৫ সালের পরে ৭ নভেম্বরের পর থেকে যখন রাজনীতি এবং রাষ্ট্রের পাদপদীপের আলোই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আসলেন ক্ষমতা নিলেন তিনি গণতন্ত্রের সে অবাধ সুযোগ তৈরি করলেন এবং বাকশালে যে আওয়ামী লীগ ডুবে গিয়েছিল, হারিয়ে গিয়েছিল। জিয়াউর রহমানের উদারতায় আওয়ামী লীগের নামে তারা আবারো আত্মপ্রকাশ করা সুযোগ পায়। এটা উপলব্ধিটা তাদের কখনও হয়নি। তারা তো ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেও পিসফুল ট্রান্সফার অফ পাওয়ার না পিসফুল ট্রান্সফার অফ পাওয়ার তারা করেনি। তারা জাস্টিস শাহাবুদ্দিনকে থ্রেট করেছে নির্বাচন বাতিল করতে। নির্বাচনের ফলাফল যখন দেখা গেল যে, বিএনপি জিতে গেছে বা বিএনপি জোট জিতেছে তখন তারা নানাভাবে উসকানি দিয়েছে এবং জাস্টিস শাহাবুদ্দিনের মত একজন মানুষকে তারা ধমক দিয়েছে।





