শ্রমিক কল্যাণ থেকে জনস্বার্থে সংকট সমাধান—শ্রমিকের পাশে থাকার অঙ্গীকার শিমুল বিশ্বাসের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ন, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৪ অপরাহ্ন, ২৯ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি জনস্বার্থে সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে মৃত্যুবরণকারী ১২ জন সদস্য শ্রমিকের পরিবারের মাঝে এককালীন মৃত্যু তহবিলের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রমিকই দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের শ্রম, ঘাম ও ত্যাগের ওপর ভর করেই দেশের অর্থনীতি এগিয়ে চলছে। একজন শ্রমিকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, সমগ্র শ্রমজীবী সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

আরও পড়ুন: বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ, ১৪৪ ধারার কারণে হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা

তিনি বলেন, শ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও শ্রমজীবী মানুষের পাশে থাকবে। মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

শিমুল বিশ্বাস আরও বলেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। এতে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

আরও পড়ুন: ১৪৪ ধারার মধ্যেই হবিগঞ্জের পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা, কর্মসূচি পালনের ঘোষণা

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বক্স (দুদু), চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক আরিফুর রহমান রুবেলসহ পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ১২ জন মৃত শ্রমিকের পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে এককালীন মৃত্যু তহবিলের অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে, জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি উদ্যোগে মধ্যস্থতা করে দেশব্যাপী সম্ভাব্য অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহারে ভূমিকা রাখেন শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ১০টার পর বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। গভীর রাত পর্যন্ত চলা আলোচনায় অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও উদ্ভূত সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

দীর্ঘ আলোচনার একপর্যায়ে শিমুল বিশ্বাসের মধ্যস্থতায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমঝোতায় পৌঁছায়। পরে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা দেন, বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা দেশব্যাপী অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে দেশজুড়ে জরুরি রোগী পরিবহন সেবা স্বাভাবিক থাকে। এতে সংকটাপন্ন রোগী, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, গর্ভবতী নারীসহ জরুরি চিকিৎসাসেবাপ্রত্যাশীরা স্বস্তি পান এবং সম্ভাব্য ব্যাপক জনভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হয়।

বৈঠক-সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের এই উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। অন্যদিকে, শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেন, শ্রমিক কল্যাণে মৃত্যু তহবিলসহ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাদের মতে, শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি জনস্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে শ্রমিকবান্ধব নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটেছে।