গোয়ালন্দে সারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় ডিলারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

Sanchoy Biswas
সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ন, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় সারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় মাসুদ মণ্ডল নামে একজন সার ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ওই এলাকার কয়েক শত কৃষক।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল এগারোটায় গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে উপজেলার কৃষকবৃন্দের ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার উজানচর ইউনিয়নের কৃষকদের স্বাক্ষরিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেল বসতঘর, যুবক নিহত

মাসুদ মণ্ডল উপজেলার উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসু মণ্ডলের ছেলে এবং তিনি গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী বলে জানা যায়।

অভিযোগে বলা হয়, মাসুদ মণ্ডল যখন খুচরা ডিলার ছিলেন, তখন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কৃষকদের সঙ্গে জোরজবরদস্তি করে টাকা নিতেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করার সাহস করত না। বর্তমানে ডিএপি সার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তিনি কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা করে প্রতি বস্তা বিক্রি করছেন। শুধু ডিএপি নয়, সব ধরনের সার বিক্রির ক্ষেত্রেই নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করে আসছেন। এতে এলাকার কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার ক্রয় থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রতারিত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: খতনা করাতে হাসপাতালে গিয়ে সাত বছরের শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ

ইতিপূর্বে মো. মাসুদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে তার পাইকারি সার বিক্রয়ের অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান উপজেলা কৃষি অফিসারের সহযোগিতায় বন্ধ থাকা পাইকারিভাবে সার বিক্রয়ের অনুমোদন পুনরায় নিয়েছেন। এমতাবস্থায় সরেজমিনে ভুক্তভোগী কৃষকদের মতামত নিয়ে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত চড়া দামে পাইকারি ও খুচরা সার বিক্রয়ের কার্যক্রমের লাইসেন্স বন্ধ ও স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়।

অভিযুক্ত মাসুদ মণ্ডল বলেন, তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ে খুব কম সার পেয়ে থাকেন এবং সরকারি দামে সার বিক্রি করেন। বর্তমানে তিনি সার বিক্রি করছেন না বলেও দাবি করেন।

তবে উজানচর ইউনিয়নের কৃষক কালাচান শেখ দাবি করেন, বর্তমানে ডিএপি সার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও মাসুদ মণ্ডল ১ হাজার ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন। বাকি নিলে ১ হাজার ৬৮০ টাকা নেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা কমিটি একটি তদন্ত করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এখন আবার নতুন করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, গত সপ্তাহে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং আজকের মানববন্ধন কর্মসূচির বিষয়েও অবগত হয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।