বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ, চরম বিপাকে কৃষকরা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ন, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৬ অপরাহ্ন, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকার বৃহত্তর রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে সেচ নিষিদ্ধ করে গেজেট জারি করেছে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জানা গেছে, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার বরেন্দ্র এলাকার ৪,৯১১ মৌজা ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত বাসে আগুন, নিহত ৪

কৃষকরা জানান, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গেজেট জারির আগে তারা বীজ, সার ও জমি প্রস্তুতে বিনিয়োগ করেছেন। সেচ বন্ধ হলে চলতি মৌসুমেই প্রায় ২৭ লাখ টন ফসল উৎপাদন কমতে পারে এবং প্রায় ২৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকতে পারে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি দীর্ঘদিন ধরে সেচনির্ভর। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশক থেকে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার নলকূপ স্থাপন করে ফসলচাষে উৎসাহ দিয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হলেও বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ নিষিদ্ধ করা ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন: ১২ বছর ভাত মুখে না তোলা ‘বিএনপিভক্ত’ নিজাম মারা গেছেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অভিজিৎ রায় বলেন, “পানি সংকট বাস্তব, তবে কৃষকদের থামিয়ে দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ধাপে ধাপে এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া উচিত।”

বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক তারিকুল ইসলাম জানান, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া গেজেট বাস্তবায়ন হলে কৃষি সংকট তৈরি হবে। পানি সংরক্ষণ ও কৃষি বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় ছাড়া এই সিদ্ধান্ত কার্যকর নয়।

গবেষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “ফলে ক্ষুদ্র কৃষক কৃষি থেকে ছিটকে পড়বেন। গেজেট পুনর্বিবেচনা, কৃষকের সঙ্গে আলোচনা এবং অন্তর্বর্তী সহায়তা জরুরি।”