নতুন বছরকে যেভাবে সাজাতে চান গবি শিক্ষার্থীরা
নতুন বছর বরাবরই এক নতুনত্ব নিয়ে আসে। নতুন বছর মানে আবারো একাডেমিক প্রেশার, ল্যাবে ঘন্টার পর ঘন্টা গবেষণা, বিভিন্ন সফট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কিংবা ব্যক্তিগত গোল অর্জনের জন্য আরো সম্ভাবনাময় ৩৬৫ দিন। শিক্ষার্থীদের ভাবনা গুলো পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী মবিনুল ইসলাম রাশা।
পশু চিকিৎসায় জ্ঞানলাভের মাধ্যমে সেবা প্রদান করতে চাই
আরও পড়ুন: জকসু নির্বাচন: সংগীত বিভাগে শিবিরের ভরাডুবি
ফারহান আব্দুল্লাহ: ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
আরও পড়ুন: জকসুর ২৩ কেন্দ্রের ফল প্রকাশ: শীর্ষ ৩ পদেই এগিয়ে শিবির সমর্থিত প্যানেল
নতুন বছরে সবারই একটা সুন্দর শুরুর পরিকল্পনা থাকে যাতে বছর শেষে নিজেকে আরও ভালো জায়গায় নিজেকে দেখা যায়। সে ধারাবাহিকতায় একাডেমিকের পাশাপাশি আমি পশু চিকিৎসায় হাতে কলমে নিজেকে আরও নিয়োজিত করব বলে ভেবে রেখেছি, কারণ আমি ভেটেরিনারি নিয়ে বর্তমানে অধ্যায়ণরত যা কিনা পরবর্তীতে আমার ক্যারিয়ার বিল্ড আপে সহায়তা করবে। ভেট রিলেটেড অনেক এক্সপো সামনে অনুষ্ঠিত হবে যেখানে প্রতিনিধিত্ব করতে এবং একই সাথে কিভাবে চিকিৎসায় আরও পারদর্শী হওয়া যায় সেই রিলেটেড প্রোগ্রাম গুলোতে আমি অংশগ্রহণ করব বলে আমি আশাবাদী। কেননা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবধর্মী জ্ঞানই পারে পরিপূর্ণ পেশাদারিত্বে পদার্পণ করাতে।
আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে উঠতে চাই
তানিসা ফারিন: আইন বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।
নতুন বছর মানেই নতুন শুরু, নতুন লক্ষ্য আর নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ। আমি নতুন বছরে একাডেমিক উৎকর্ষ, ক্যারিয়ার প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নকে মূল লক্ষ্য করেছি। শুধু ভালো রেজাল্ট নয়, প্রতিটি বিষয়ের মূল ধারণা বোঝার দিকে মনোযোগ দেব। নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। পাবলিক স্পিকিং ও কমিউনিকেশন স্কিল উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেব। ক্লাস প্রেজেন্টেশন, গ্রুপ ডিসকাশন ও একাডেমিক আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে চাই।
পড়াশোনার পাশাপাশি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ও সংগঠনগুলোতে যুক্ত হয়ে নেতৃত্ব, টিমওয়ার্ক ও দায়িত্ববোধের দক্ষতা অর্জনের ইচ্ছা আছে। এই অভিজ্ঞতা শুধু একাডেমিক জীবন নয়, বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও সাহায্য করে। সব মিলিয়ে, নতুন বছর আমার জন্য নিজেকে আরও সচেতন, আত্মবিশ্বাসী ও প্রস্তুত শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ।
গবেষণা ভিত্তিক ভাবনায় মনোযোগী হওয়া জরুরী
জান্নাতুল ফেরদৌস সাদিয়া: রসায়ন বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।
স্নাতক জীবনের শেষ বর্ষে পদার্পণ করেছি। এমুহূর্তে সংকল্প হলো প্রথমে নিজের ক্যারিয়ার ও লক্ষ্য স্পষ্ট করা এবং সেই লক্ষ্য অনুযায়ী দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করা। গবেষণাভিত্তিক ভাবনায় মনোযোগী হওয়া যা পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষায় আরও গভীরভাবে কাজে লাগাবে। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকতে ডিজিটাল কমিউনিকেশন স্কিল ও নতুন কিছু দ্রুত শিখতে পারার ক্ষমতা নতুন বছরে অন্যদের চেয়ে কার্যকর বলে মনে হয় আমার। নতুন বছরে সময় ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে চাই। স্কিল ডেভেলপমেন্টে কাজ করতে চাই। সর্বোপরি নিজেকে আরও দায়িত্বশীল ও পেশাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার নজির স্থাপন করতে হবে
মো. মেহদি হাসান: ইইই বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতি বছরই বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে যার ফলে শিক্ষা ও চিন্তার বৈচিত্র্য তৈরি হয়েছে। ভিন্নমত ও ভিন্ন চিন্তাধারার প্রতি সহনশীলতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠা জরুরী, নতুন বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার সংস্কৃতি তৈরি করা।
অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই শিক্ষার মান আরও বাড়াতে হলে গবেষণা ও প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষায় আগ্রহী হতে চাই। ২০২৬ সালের নববর্ষে এসব প্রত্যাশা কোনো কল্পনা নয় এগুলো একজন শিক্ষার্থীর বাস্তব চাহিদা ও সময়োপযোগী দাবি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আধুনিক সহনশীল ও মানসম্মত শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠবে এই প্রত্যাশাই নতুন বছরের অঙ্গীকার।





