চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা

Sadek Ali
সনজিত কর্মকার, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ন, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪২ অপরাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চলতি শীত মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার জেলা আবহাওয়া অফিস সকাল ৬ ও ৯ টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি যা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। চলমান তীব্র শীতে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীর ভিড় বাড়ছে। 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নথি অনুসারে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা নিয়েছেন। বিশেষ করে রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তরা ভর্তি হয়েছেন।

আরও পড়ুন: কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী ঋণ খেলাপি, নির্বাচন করতে পারবেন না

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু মরিয়ম। তার বাবা হাফিজ উদ্দী বলেন, হঠাৎ করে মেয়ের পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। বেড না পেয়ে ঠান্ডা মেঝেতেই বা”চাকে রেখে চিকিৎসা নিতে হয়েছে, যা খুব কষ্টকর।

মিনহাজ উদ্দীন নামে একজন বলেন, গত দুই দিন ধরে সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। রোগীর চাপ এত বেশি যে ওয়ার্ডে জায়গা নেই। মেঝেতেই চিকিৎসা চলছে। কষ্ট হলেও চিকিৎসক ও নার্সরা যথাসাধ্য সেবা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বাসচালককে মারধরের অভিযোগে এএসপির বিরুদ্ধে তদন্তে কমিটি

নার্সরা বলছেন, রোগীর চাপ বাড়ছে, কিন্তু জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স জলি খাতুন বলেন, ২০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন রোগীর চাপ বাড়ছে। এ শীতের কারণে নিউমোনিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের ভর্তি হতে হচ্ছে। 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতের প্রভাবে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটছে। এতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং হাসপাতালে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও আমরা চিকিৎসাসেবা চালু রেখেছি।

এদিকে, মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। হাড়কাঁপানো তীব্র শীত ও উত্তরের হিমেল বাতাসে ¯’বির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। টানা ৩ দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। অনেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।

ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর বলেন, এই শীতে রাস্তায় যাত্রী খুব কম। ২-১ জন যাত্রী নিয়েই বের হতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে ঠান্ডা বাতাসে।

নির্মাণ শ্রমিক রবিউল বলেন, কনকনে শীতে পানি নিয়ে কাজ করা খুব কঠিন। পানিতে হাত দিলেই বরফের মতো ঠান্ডা লাগে। এদিকে কাজ না করলে সংসার চলে না।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শৈত্যপ্রবাহ চলমান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।