বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৩০

Sanchoy Biswas
রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ন, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৪ অপরাহ্ন, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: যশোর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল, ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা আগে থেকেই চেয়ারে বসে থাকলেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে দেরি করায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা তার অপেক্ষায় ছিলেন। একপর্যায়ে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে ৩ বছরের শিশু

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সংবাদ সংগ্রহকালে দুজন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, উগ্রবাদী জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তাদের হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব সাহা জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০–১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পরে কথা বলবেন না বলে ফোন কেটে দেন। তবে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।